প্রকাশিত: সোমবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৫
সাহিত্যজগতের জনপ্রিয় লেখক হুমায়ূন আহমেদের ব্যক্তিজীবন ঘিরে আবারও নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে একের পর এক ফেসবুক পোস্ট। সম্প্রতি হুমায়ূনের প্রাক্তন স্ত্রী গুলতেকিন খান তার দাম্পত্য জীবনের তিক্ত অভিজ্ঞতা তুলে ধরে একটি স্ট্যাটাস দেন, যা সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
গুলতেকিন তার লেখায় যুক্তরাষ্ট্রে কাটানো এক শীতের রাতের বেদনাময় অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন। সেই সঙ্গে তরুণীদের উদ্দেশে সতর্ক বার্তাও দেন- অল্প বয়সে যেন কেউ তার মতো ভুল না করে।
এই আলোচিত পোস্টের দুই দিন পর বর্তমান স্ত্রী ও অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন নিজের ফেসবুকে দেন আরেকটি পোস্ট, যা নতুন করে আলোচনায় নিয়ে আসে প্রয়াত লেখক হুমায়ূন আহমেদকে।
শাওন তার পোস্টে হুমায়ূনের আত্মজীবনী ‘নিউইয়র্কের নীল আকাশে ঝকঝকে রোদ’ বইয়ের একটি অংশ উদ্ধৃত করেন। সেখানে হুমায়ূন লিখেছিলেন, কীভাবে তিনি ক্যানসারের চিকিৎসার সময় ঘৃণামূলক মন্তব্যের মুখে পড়েছিলেন এবং কীভাবে তিনি সেই ঘৃণার জবাব দিয়েছেন ধৈর্য আর মানবিকতার মাধ্যমে।
শাওনের পোস্টে উঠে আসে তার নিজের অভিজ্ঞতাও। ক্যানসার আক্রান্ত স্বামীর পাশে থাকা অবস্থায় সামাজিক মাধ্যমে পাওয়া কঠিন কিছু মন্তব্যের কথা তিনি উল্লেখ করেন। কেউ তাকে বলেছিল- ‘তোমার প্রাপ্য শাস্তি হয়েছে, আল্লাহ তোমার স্বামীকে ক্যানসার দিয়েছেন।’ এমনকি মেয়ের মৃত্যুর পরও তিনি পেয়েছেন অমানবিক মন্তব্য।
এসব নিয়ে হুমায়ূনের প্রতিক্রিয়া ছিল শান্ত ও মানবিক। তিনি শাওনকে বলেছিলেন, ‘পৃথিবীতে মানসিকভাবে অসুস্থ অনেক মানুষ আছে। তাদের নিয়ে ভাবার দরকার নেই। যারা ভালো কথা বলে, ভালোবাসা দেয়, তাদের কথাই মনে রাখো।’
আরেকটি ঘটনায়, এক তরুণ সরাসরি হুমায়ূনকে বলেছিল, ‘আপনার লেখা আমার জঘন্য লাগে। আমি চাই আপনি তাড়াতাড়ি মারা যান।’
তখনও হুমায়ূনের উত্তর ছিল প্রশান্তির, ‘আমি চাই তোমার জীবন দীর্ঘ হোক এবং তা অর্থবহ হোক।’
শাওনের এই পোস্ট দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক মাধ্যমে। অনেকে পোস্টটি শেয়ার করে হুমায়ূন আহমেদের সহনশীলতা ও মানবিকতা তুলে ধরেন। কেউ কেউ বলেন, ‘এই কারণেই তিনি শুধু লেখক নন, ছিলেন এক অসাধারণ মানুষ।’