প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৫
সত্যের সন্ধান এটাই সাংবাদিকতার মূল মন্ত্র। সমাজ, রাষ্ট্র ও মানবজীবনের প্রতিটি স্তরে ঘটে চলা ঘটনাগুলোকে নিরপেক্ষভাবে তুলে ধরার দায়িত্ব সাংবাদিকের। কিন্তু আজকের দ্রুত পরিবর্তনশীল
পৃথিবীতে এই দায়িত্ব পালন করা মোটেও সহজ নয়। প্রযুক্তির উন্নয়ন যেমন সংবাদকে করেছে সহজলভ্য, তেমনি বেড়েছে ভুয়া খবর, অপপ্রচার ও পক্ষপাতদুষ্টতার ঝুঁকি। সত্য ও মিথ্যার মাঝখানে
তৈরি হয়েছে এক ঘন কুয়াশা, যার ভেতর দিয়ে সাংবাদিকদের পথ চলা এখন এক কঠিন চ্যালেঞ্জ।
বর্তমানে সাংবাদিকতা শুধু তথ্য প্রচারের মাধ্যম নয়; এটি সামাজিক দায়বদ্ধতারও প্রতীক। একদিকে পাঠক চায় তাৎক্ষণিক খবর, অন্যদিকে সংবাদকর্মীকে যাচাই-বাছাই করে সত্য তুলে ধরতে হয়।
অনেক সময় সময়ের চাপ, প্রতিষ্ঠানের নীতি বা রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে সেই সত্য বিকৃত হয়। তবুও, নৈতিকতা ও পেশাগত সততা সাংবাদিকতার প্রাণশক্তি। যে সাংবাদিক সত্যের প্রতি অনুগত,
তিনিই জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারেন।
ডিজিটাল যুগ সাংবাদিকতাকে দিয়েছে নতুন দিগন্ত। অনলাইন নিউজ পোর্টাল, সোশ্যাল মিডিয়া ও সিটিজেন জার্নালিজম এখন সংবাদ পরিবেশনের ধরন পাল্টে দিয়েছে। এর ইতিবাচক দিক হলো
জনগণের অংশগ্রহণ বেড়েছে, সংবাদ আরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। তবে এই সুযোগের অপব্যবহারও হচ্ছে অনেক। তাই সাংবাদিকদের প্রযুক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি থাকতে হবে তথ্য যাচাইয়ের
(Fact-checking) কৌশল ও মিডিয়া নৈতিকতার জ্ঞান।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সাংবাদিকতা এখনও আশাবাদের জায়গায় আছে। নানা বাধা-বিপত্তি পেরিয়েও বহু তরুণ সাংবাদিক সত্য প্রকাশের সাহস দেখাচ্ছেন। তারা বিশ্বাস করেন সত্যকে প্রতিষ্ঠিত
করার মাধ্যমেই সমাজকে বদলে দেওয়া যায়।
অতএব, সাংবাদিকতার মূল শক্তি হলো সত্য ও বিশ্বাসযোগ্যতা। প্রযুক্তি, রাজনৈতিক চাপ কিংবা ব্যবসায়িক স্বার্থ—কোনোটাই যেন এই মূলনীতি থেকে আমাদের সরাতে না পারে।
সাংবাদিকতা তখনই অর্থবহ, যখন তা মানুষের পাশে দাঁড়ায়, অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলে এবং সত্যের আলোয় সমাজকে আলোকিত করে।
মোঃ রাব্বী মোল্লা
দপ্তর সচিব, জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা।