টঙ্গী শহীদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়ন ও ঝরেপড়া রোধে বিভিন্ন উদ্যোগের পরিকল্পনা
পেশাদার সাংবাদিকতার পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক, সেবামূলক ও ক্রীড়া সংগঠনের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত রয়েছেন সাংবাদিক নাসির উদ্দীন বুলবুল। দেশের বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকায় তিন যুগেরও বেশি সময় ধরে সাংবাদিকতা পেশায় দায়িত্ব পালন করে আসছেন তিনি।সম্প্রতি টঙ্গীর ঐতিহ্যবাহী শহীদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক ম্যানেজিং কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন নাসির উদ্দীন বুলবুল। নতুন দায়িত্বে বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের ঝরেপড়া রোধ, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা এবং সহশিক্ষা কার্যক্রম জোরদারে বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তিনি।
‘নাগরিক সময়’-এর সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব পরিকল্পনা ও তাঁর বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ড নিয়ে কথা বলেন।
প্রশ্ন: অভিনন্দন আপনাকে। শহীদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক ম্যানেজিং কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন। বিসিক এলাকার অন্যতম ঐতিহ্যবাহী এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মানোন্নয়নে আপনার প্রাথমিক পরিকল্পনা কী?
নাসির উদ্দীন বুলবুল: ধন্যবাদ। টঙ্গীর বিসিক এলাকা একটি শিল্পাঞ্চল। এখানে খেটে খাওয়া মানুষ ও মধ্যবিত্ত পরিবারের অনেক সন্তান পড়াশোনা করে। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো শ্রেণিকক্ষে মানসম্মত পাঠদান নিশ্চিত করা, নিয়মিত শিক্ষক-অভিভাবক সমাবেশ আয়োজন করা এবং শিক্ষার্থীদের আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষায় দক্ষ করে তোলা।
শুধু পুঁথিগত শিক্ষার মধ্যে শিক্ষার্থীদের সীমাবদ্ধ না রেখে সহশিক্ষা ও সহপাঠ্যক্রমিক কার্যক্রমের মাধ্যমে তাদের আদর্শ, দায়িত্বশীল ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলাই আমাদের প্রধান অঙ্গীকার।
প্রশ্ন: বিসিক এলাকার আর্থসামাজিক ও ভৌগোলিক বাস্তবতায় শিক্ষার্থীদের ঝরেপড়া রোধ এবং পড়াশোনায় মনোযোগী রাখতে বিশেষ কোনো উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা আছে কি?
নাসির উদ্দীন বুলবুল: অবশ্যই। শিল্পাঞ্চলের অনেক পরিবার আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে সন্তানদের পড়াশোনার পাশাপাশি কাজে যুক্ত করতে বাধ্য হয়। ফলে কিছু শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার ঝুঁকিতে থাকে।
এ অবস্থায় পিছিয়ে পড়া ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত সহায়ক বা রেমিডিয়াল ক্লাসের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ঝরেপড়া রোধে স্থানীয় সুশীল সমাজ ও কমিটির সহযোগিতায় শিক্ষাবৃত্তি এবং বিনামূল্যে শিক্ষা উপকরণ সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
প্রশ্ন: সাংবাদিকতার পাশাপাশি রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন আলোচনা দেখা যায়। এ বিষয়ে আপনার বক্তব্য কী?
নাসির উদ্দীন বুলবুল: আমি পেশায় একজন স্বাধীন ও পেশাদার সাংবাদিক। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন ও সাংবাদিকতার পেশাগত দায়িত্ব পালনের স্বার্থে সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিকসহ বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে হয়। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, সামাজিক কর্মী ও পেশাজীবীদের সঙ্গে একই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়া বা মতবিনিময় করাও সাংবাদিকতার পেশাগত যোগাযোগের অংশ।
সাংবাদিকতার বাইরে আমি বিভিন্ন সামাজিক, ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া সংগঠনের সঙ্গেও যুক্ত। এসব সংগঠনের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের কারণে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আমার ছবি থাকা স্বাভাবিক। এসব ছবি বা পেশাগত যোগাযোগকে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আমার দলীয় সম্পৃক্ততার প্রমাণ হিসেবে দেখানো সঠিক নয়।
আমি কোনো রাজনৈতিক দলের দলীয় পদে নেই। আমার পরিচয় একজন পেশাদার সাংবাদিক ও সমাজকর্মী হিসেবেই বজায় রাখতে চাই।
প্রশ্ন: আপনার বিভিন্ন সামাজিক ও পেশাগত সম্পৃক্ততা সম্পর্কে জানতে চাই।
নাসির উদ্দীন বুলবুল: আমি পেশাদার সাংবাদিকদের বৃহত্তর সংগঠন ঢাকা সাব-এডিটরস কাউন্সিলের সদস্য ও সাবেক নির্বাচিত কার্যনির্বাহী সদস্য। এছাড়া জাতীয় সাংবাদিক সোসাইটির কার্যনির্বাহী কমিটির মহাসচিব, টঙ্গী প্রেস ক্লাবের সদস্য ও সাবেক আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। সামাজিক ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে জামাই বাজার বাইতুল আকরাম জামে মসজিদের সহ-সাধারণ সম্পাদক এবং পূর্ব আরিচপুর রেলওয়ে ওমর (রা.) জামে মসজিদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। এছাড়া আন্তর্জাতিক এনজিও কারিতাসের উদ্যোম প্রকল্প ও বারাকার ঢাকা রিজিওনের উপদেষ্টা এবং ক্রীড়া সংগঠন আরবান স্পোর্টসেস কালচারাল ডেভেলপমেন্ট একাডেমি (ইউএসসিডি)-এর সদস্য হিসেবে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছি।
প্রশ্ন: পরিশেষে টঙ্গী শহীদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়ের অভিভাবক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে আপনার বার্তা কী?
উত্তরে নাসির উদ্দীন বুলবুল বলেন আমি বিশ্বাস করি, একটি বিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়ন শুধু ম্যানেজিং কমিটির একার পক্ষে সম্ভব নয়। শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী এবং এলাকার সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত সহযোগিতার মাধ্যমেই একটি আদর্শ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা সম্ভব।
বিদ্যালয়ের অভিভাবক ও এলাকাবাসী আমাদের ওপর যে আস্থা রেখেছেন, তার মর্যাদা রক্ষায় আমরা বস্তুনিষ্ঠতা, সততা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে চাই। শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা, শিক্ষার্থীদের ঝরেপড়া রোধ করা এবং শহীদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়কে এই অঞ্চলের একটি মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা আন্তরিকভাবে কাজ করে যাব।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করার জন্য নয়, বরং নৈতিক মূল্যবোধ, মানবিকতা, শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলাই একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।