ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) উদ্যোগে ‘জাতীয় সিরাত সেমিনার ও ডাকসু ট্যালেন্ট হান্ট প্রতিযোগিতা-২০২৬’-এর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের জ্ঞানচর্চার পাশাপাশি নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও সুপ্ত প্রতিভার বিকাশে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে কুরআন, হাদিস ও সিরাত বিষয়ে বিজয়ী ৩০ শিক্ষার্থীর হাতে মোট দেড় লাখ টাকা নগদ পুরস্কার ও সনদ তুলে দেওয়া হয়।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের মুজাফফর আহমদ চৌধুরী অডিটোরিয়ামে জাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশে সেমিনার ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
ডাকসুর ভিপি আবু সাদিক কায়েমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী। প্রধান অতিথির উপস্থিতি অনুষ্ঠানে বিশেষ গুরুত্ব ও প্রাণবন্ততা যোগ করে। তিনি শিক্ষার্থীদের জ্ঞান, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধকে ধারণ করে দেশ ও সমাজের কল্যাণে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানের অন্যতম বিশেষ দিক ছিল শীর্ষস্থানীয় আতিথেয়তা প্রতিষ্ঠান ইস্তাম্বুল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট লিমিটেডের প্রধান পৃষ্ঠপোষকতা ও সহযোগিতা। শিক্ষার্থীদের জ্ঞানচর্চা, নৈতিক মূল্যবোধ এবং প্রতিভা বিকাশে আয়োজিত এ ধরনের উদ্যোগের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির সম্পৃক্ততা তাদের করপোরেট ও সামাজিক দায়বদ্ধতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডি. এম. এমদাদুল হক এ উদ্যোগের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত থেকে শিক্ষার্থীবান্ধব এ আয়োজনকে সফল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
আয়োজকরা জানান, তরুণ প্রজন্মের মেধা ও প্রতিভাকে সঠিকভাবে বিকশিত করার পাশাপাশি তাদের মধ্যে নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার লক্ষ্যেই জাতীয় সিরাত সেমিনার ও ট্যালেন্ট হান্টের আয়োজন। এ ধরনের ইতিবাচক ও জ্ঞানভিত্তিক কার্যক্রমে বেসরকারি খাতের দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানগুলোর সহযোগিতা শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করার পাশাপাশি সামাজিক উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সেমিনারে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কবি, সাহিত্যিক ও গবেষক শায়খ মুসা আল হাফিজ, মসজিদুত তাকওয়ার খতিব হাফেজ মুফতি সাইফুল ইসলাম, সাবিল ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. মোখতার আহমদ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. যুবাইর মুহাম্মদ এহসানুল হক।
আলোচকরা মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন, আদর্শ, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তারা বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনাদর্শ শুধু ধর্মীয় অনুশাসনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ন্যায়, সাম্য, মানবিকতা, সহনশীলতা ও দায়িত্বশীলতার গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা রয়েছে।
তারা আরও বলেন, জ্ঞানচর্চার পাশাপাশি নৈতিক ও মানবিক গুণাবলির বিকাশ একজন শিক্ষার্থীর পরিপূর্ণ বিকাশের জন্য অপরিহার্য। কুরআন, হাদিস ও সিরাত বিষয়ে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ ও প্রতিভাকে উৎসাহিত করতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এসব মূল্যবোধ ছড়িয়ে দিতে সিরাতচর্চা আরও বিস্তৃত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তারা।
সভাপতির বক্তব্যে ডাকসুর ভিপি আবু সাদিক কায়েম বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একাডেমিক জ্ঞান অর্জনের জায়গা নয়; এটি জ্ঞান, সংস্কৃতি, মূল্যবোধ ও নেতৃত্ব বিকাশেরও অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। শিক্ষার্থীদের মেধা ও প্রতিভা বিকাশের পাশাপাশি তাদের নৈতিক ও মানবিক গুণাবলি বিকশিত করাও আমাদের দায়িত্ব।
তিনি বলেন, সিরাতচর্চার মাধ্যমে মহানবী (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ থেকে শিক্ষা নিয়ে ব্যক্তি ও সমাজজীবনে তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করতে হবে। ডাকসু শিক্ষার্থীদের বহুমুখী প্রতিভা বিকাশে বিভিন্ন ধরনের সৃজনশীল ও জ্ঞানভিত্তিক কার্যক্রম আয়োজন করছে।
একটি সুন্দর ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে তরুণদের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় নয়, ইতিহাস, সংস্কৃতি, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও মানবিকতার চর্চায়ও শিক্ষার্থীদের এগিয়ে আসতে হবে।
অনুষ্ঠানে ডাকসু ট্যালেন্ট হান্ট প্রতিযোগিতা-২০২৬-এর কুরআন, হাদিস ও সিরাত—এই তিন বিভাগে বিজয়ী ৩০ জনের হাতে মোট দেড় লাখ টাকা নগদ পুরস্কার ও সনদ তুলে দেন অতিথি ও আলোচকরা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ফজলে রাব্বী সরকার অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। স্বাগত বক্তব্য দেন ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য ও জাতীয় সিরাত প্রতিযোগিতার আহ্বায়ক হাফেজ তাজিনুর রহমান। তিনি বলেন, ‘পবিত্র কুরআন, হাদিস ও সিরাতের আলোয় শিক্ষার্থীদের জীবন আলোকিত করতেই ডাকসুর ট্যালেন্ট হান্ট প্রতিযোগিতার আয়োজন। আমাদের লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের নৈতিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করে একটি সুসংগঠিত, ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ও রাষ্ট্র বিনির্মাণে ভূমিকা রাখা।’
অনুষ্ঠানে ডাকসুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক ইকবাল হায়দার, ক্যারিয়ার উন্নয়নবিষয়ক সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম, আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক জসিম উদ্দীন খান (খান জসিম), ডাকসু ও বিভিন্ন হল সংসদের নেতৃবৃন্দ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
শিক্ষার্থীদের মেধা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধের সমন্বিত বিকাশে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানকে একটি ইতিবাচক ও সময়োপযোগী উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে ডাকসুর এমন উদ্যোগে ইস্তাম্বুল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট লিমিটেডের পৃষ্ঠপোষকতা ও ডি. এম. এমদাদুল হকের নেতৃত্বে সহযোগিতা শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সামাজিক উন্নয়নে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল অংশগ্রহণের একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।