মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৫

টাঙ্গাইলে শ্রমিক নেতা সাজুর বিরুদ্ধে পরকীয়া ও মানব পাচারের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার :

প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৫

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার চান্দশী এলাকার মৃত খোয়াজ আলীর পুত্র শাহজাহান ওরফে সাজু( ৪৮)ও একই গ্রামের দুলাল মিয়ার কন্যা ফাতেমা আক্তার ওরফে ফতের( ৩২) সাথে 

পরকীয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়। শাহজাহান ওরফে সাজু বিবাহিত জীবনে চার সন্তানের জনক।ফাতেমা একাধিক সন্তানের জনক। তারা প্রতিবেশী চাচাতো ভাই বোন। সাজু ঘাটাইল 

নির্মাণ প্রকৌশল শ্রমিক ইউনিয়নের সাপ শ্রমিক কনট্রাক্টর  হিসেবে বিভিন্ন বিল্ডিং এর কাজে কর্মরত। সে যেখানে কাজ পায় সেখানে নারী শ্রমিক নিয়ে পরকীয়ায় জড়িত থাকার অভিযোগ 

পাওয়া যায়। একই গ্রামে  দুজন বিবাহিত থাকলেও তাদের সাথে ছোটবেলা থেকেই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। বিবাহিত জীবনে দুজনের কেউই সুখী নন।


 নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক ব্যক্তি জানান, দীর্ঘদিন যাবত ফাতেমা এবং সাজুর মধ্যে পরকীয়া সম্পর্ক রয়েছে। তাদের একসাথে বিভিন্ন স্থানে দেখা যায়। এদের মধ্যে সাজু মানব 

পাচারকারী হিসেবে বিভিন্ন দেশে নারী দের বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে এজেন্সির মাধ্যমে পাচার করা হয়। এই কাজে তাকে সহযোগিতা করেন ফাতেমা ওরফে ফতে। যা এখন পর্যন্ত চলমান রয়েছে। 

তারা অবৈধভাবে শারীরিক সম্পর্কেও জড়িত। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কৌশলে মোটা অংকের টাকা কাবিন মূলে চুক্তি করে একাধিকবার বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন ফাতেমা।

কোন সমস্যা হলে তাকে ছাড়িয়ে আনেন তারপর পরকীয়া প্রেমিক ও ব্যবসায়িক পার্টনার প্রেমিক সাজু। তাদের স্বার্থ পূরণের জন্য কাবিনের টাকা আত্মসাৎ করে একাধিকবার বৈবাহিক সম্পর্ক ও 

ছিন্ন করেছেন বলে জানা যায়। গোপন সূত্রে আরো জানা যায়, পূর্বের সংসারকালীন সময়ে এক পুত্র সন্তানের জননী এবং পরবর্তীতে ফরমানের সংসারে আরো একটি পুত্র সন্তানের জন্ম দেন এই পরকীয়া দম্পতি। 

মানব পাচার কাজের প্রয়োজনে সাজু ও ফাতেমা গোপনে বৈবাহিক চুক্তির কথাও জানা যায়। বর্তমানে তারা পৃথক পৃথক  ভাবে সংসার করছেন। ফাতেমা বর্তমানে পরমাণু সংসারে যে পুত্র রয়েছে তার নাম আনাস। 

ফরমানের সংসারের যে পুত্র সন্তানের জন্ম হয়েছে সেটি মূলত তার সন্তান নয় বলে এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে লোকমুখে গুঞ্জন রয়েছে এবং বিভিন্ন স্থানে আলোচনা সমালোচনার অভিযোগ রয়েছে।


এ বিষয়ে সাজু ও পথের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তাদের দেখা পাওয়া যায়নি। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী থেকে জানা যায়, তাদের নিয়ে এ বিষয়ে একাধিক সালিশ হয়েছে কিন্তু তারা সংশোধন হয়নি। 

তাদের পরিবার এ ঘটনা ছাড়াও  বিদেশে লোক পাঠানোসহ একাধিক সমস্যা নিয়ে স্থানীয়ভাবে ও শ্রমিক অফিসে সালিশ করা হয়েছে। সামাজিকভাবে তাদের বলতে গেলেও তারা স্থানীয় প্রভাবশালী 

ব্যক্তিদের ছত্রছায়ায় মুশলেকা ও জরিপানা দিয়ে তাদের বিচার কাজ সম্পন্ন হলেও একই অপরাধ বারবার করে আসছে। তাদের বুঝাতে গেলে সংশোধন না হয়ে উল্টো বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে থাকেন।

এ বিষয়ে সাজুর স্ত্রী খাদিজা জানান, এ বিষয়ে একাধিক সালিশ হয়েছে, অনেক চেষ্টা করেও তাকে সংশোধন করাতে পারছিনা। সালিশের পর কিছুদিন ভালো থাকে পুনরায় আবার শুরু করে।

এ বিষয়ে, ফতের বাবা দুলাল মিয়া জানান, আমি বিভিন্ন সময়ে শাসনের চেষ্টা করেছি। ফতের বিবাহ দিলেও সাজু বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে হতের সাথে যোগাযোগ করে একাধিক সংসার ভেঙেছে। 

বর্তমানে ফতের কালিহাতী উপজেলার পিচুড়িয়া গ্রামের মাদকাসক্ত ফরমান আলীর সাথে বিবাহবন্ধনে সম্পৃক্ত রয়েছে। কিন্তু সেখানেও রয়েছে নানান জটিলতা।

ফরমানের ভাই লেবু জানান, কিছুদিন যাবৎ পথের পরকীয়ার ঘটনা শুনেছি। ওদের পৃথক সংসার আমরা শাসনের চেষ্টা করেছি। তারা কথা শুনতে চায় না। দেখি আরো ভাই আছে তাদের নিয়ে সমাধান 

করা যায় কিনা। স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, আমরা প্রায়ই দেখি ওই গৃহবধূ ফতে মোবাইলে  নিয়েসারাদিন ব্যস্ত থাকে। তার স্বামী রাজমিস্ত্রির শ্রমিক  হওয়াতে সারাদিন বাড়িতে থাকে না। এই সুযোগ 

কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন অজুহাতে বাহিরে গিয়ে দেখা করে এবং মুঠো ফোনে বেশিরভাগ সময় ব্যস্ত থাকতে দেখা যায়। সাজু ও ভুতের পরকীয়ায় ঘাটাইল ও কালিয়াতি উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় গুঞ্জন রয়েছে। 

তাদের পরকীয়ার সম্পর্কের কারণে শিক্ষার্থী ও যুব সমাজ নষ্ট হচ্ছে। সমাজের সচেতন অভিভাবক ও স্থানীয় মতব্য গণ এর সমাধান দাবি করেছেন।

মানব পাচার, মাদকাসক্ত ও পরকীয়ার  বিষয়ে  জেলা ও উপজেলা প্রশাসন সহ সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন জনসাধারণ।

Share with friend